এক্সপোর্ট–ইমপোর্ট
সর্বশেষ

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা টিসিবির

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি এবার ছোলা ও খেজুরও কিনবে সংস্থাটি।প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম, প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো হলে বিদেশ থেকে পণ্য কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা পণ্য এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি।গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগমজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদামের সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টিসিবির মোট ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়া করা।এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামগুলোর ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে টিসিবির পণ্যের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক।ভর্তুকি কমিয়ে বাজারমুখী হওয়ার পরিকল্পনাসরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে দ্রুত সাড়া দিতে পারে—এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তোলার কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা আরও বাড়ানো হচ্ছে।তিনি জানান, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি। ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে।বাড়ছে টিসিবির পণ্যের তালিকাভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদও তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হবে। তবে এসব পণ্যের জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদনবর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করছে সংস্থাটি।টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, মৃত্যু, স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকায় সময়ের সঙ্গে নতুন নাম যুক্ত, বাদ বা পরিবর্তন হতে পারে। তাই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে একটি গতিশীল প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে টিসিবির সরবরাহব্যবস্থাটিসিবির সরবরাহব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পণ্য কেনার পর ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পাবেন।এ ছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটালভাবে স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি সরকারি কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে।নিজস্ব গুদাম বাড়ানোর পরিকল্পনাভাড়া করা গুদামের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব গুদাম সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরি করতে চায়।টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য ক্রয় ও বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান বজায় রেখে সাশ্রয়ী দামে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের তালিকা বাড়ানোই টিসিবির মূল লক্ষ্য। নতুন কোনো পণ্য বাজারে আনার আগে ভোক্তাদের প্রয়োজন যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে পণ্যের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।
৯ ঘন্টা আগে

আজ ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

জিনজিরা, দোলেশ্বর, পানগাঁও ও কেরানীগঞ্জের আংশিক এলাকায় আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানগাঁও ভাল্ভ স্টেশনের লিকেজযুক্ত আউটলেট ভাল্ভ পরিবর্তনের কাজের কারণে এসব এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া কাজ চলাকালে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
১৩ ঘন্টা আগে

টাকা ফেরত পাচ্ছেন ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা, আসছে নতুন স্কিম

বছরের পর বছর ধরে অনিয়ম ও লুটপাটে বিপর্যস্ত চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আবিবা, ফারিস্ট, এফএস ফাইনান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি সপ্তাহেই আমানত ফেরত স্কিম চূড়ান্ত করে ঘোষণা করবে, যার ফলে সরকারের অনুমোদন ও তহবিল ছাড় হওয়া মাত্রই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানো শুরু হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এখন আমরা একটি স্কিম তৈরি করব, যেভাবে আমরা পাঁচ ব্যাংকের জন্য করেছিলাম এটি একই আদলে, অনুরূপ না। এটির জন্য আমরা স্কিম করব এবং সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রাপ্তির পরেই এই স্কিমটা ঘোষণা করা হবে এবং সেই অনুযায়ী যারা আমানতকারী তাদের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হবে।’ এই স্কিমের আওতায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত আমানত রয়েছে এমন গ্রাহকরা ফেরত পাবেন পুরো অর্থ। আর ২০ লাখে প্রথম ধাপে পাবে ৯০ শতাংশ ৩০ লাখের আমানতকারীরা পাবেন ৮৫ শতাংশ অর্থ। টাকার পরিমাণ যত বাড়বে পরিশোধের শতাংশ তত কমতে থাকবে। আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, ‘এটা স্কিমের মধ্যেই পুরো টাইমলাইনটা উল্লেখ করা থাকবে, কারা পূর্ণাঙ্গ পাবে কারা আংশিক পাবে। যারা আংশিক পাবে তারা বাকি অংশ কবে পাবে, এবং আংশিক পেলে কত শতাংশ এখন পাবে, বাকি অংশ কবে পাবে-সবকিছু মিলেই একটা পূর্ণাঙ্গ স্কিম ঘোষিত হবে।’ বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরি বলেন, ‘যারা আমানতকারী আছেন তাদের যে অর্থ, এটা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সেটি যেভাবে করা সম্ভবপর, সেভাবে করে এগুলোকে অবসায়ন করার জন্য যে প্রক্রিয়া, সেটিকে শেষ করে আমাদের অর্থাৎ এই অদক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ অবসায়ন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর সম্পদ বিবেচনায় অর্থ ফেরত পাবেন প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা।  
২৪ আগস্ট ২০২৬
আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, ব্যবসা সহজ করতে নতুন কাঠামো

আমদানি নীতিতে বড় পরিবর্তন, ব্যবসা সহজ করতে নতুন কাঠামো

দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬–২০২৯’ জারি করেছে সরকার। নতুন নীতিতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য, ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিগত স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। ‘ইমপোর্টস অ্যান্ড এক্সপোর্টস (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ৩(১) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ ২০২৬ সাল থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।নতুন নীতিতে পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, আমদানির শর্ত, প্রয়োজনীয় সনদপত্র, পণ্যের উৎপত্তি দেশ নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিধিমালা অনুসরণের বিষয়গুলো আরও সুসংগঠিত করা হয়েছে। এতে আমদানিকারকদের জন্য নিয়ম-কানুন সম্পর্কে স্পষ্টতা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরা আগাম পরিকল্পনা করার সুযোগ পাবেন।মূল্যসীমা ছাড়াই চুক্তির মাধ্যমে আমদানিনতুন আমদানি নীতির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পণ্য আমদানির অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি। এখন ঋণপত্র বা এলসি খোলার পাশাপাশি কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে পারবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা।আগের ২০২১–২০২৪ সালের নীতিতেও এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত প্রযোজ্য ছিল। নতুন নীতিতে সেই সুযোগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলমোটরসাইকেল আমদানির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে।এর আগে ২০২১–২০২৪ সালের আমদানি নীতি অনুযায়ী, সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধিনিষেধ ছিল। ফলে নতুন নীতিতে মোটরসাইকেল আমদানির পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ল।ফ্রি ট্রেড জোন ও বন্ডেড ওয়্যারহাউজনতুন নীতিতে ফ্রি ট্রেড জোন এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকসের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির সুবিধাএফটিএ, সেপা, ইপিএসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির আওতায় সুবিধা গ্রহণের বিষয়েও নতুন নীতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে শুল্ক সুবিধা, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।পাশাপাশি পণ্যের ‘কান্ট্রি অব অরিজিন’ বা উৎপত্তি দেশসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে পণ্যের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রযোজ্য সুবিধা গ্রহণ সহজ হবে।আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের ওপর জোরনতুন আমদানি নীতিতে আন্তর্জাতিক মান ও কারিগরি বিধিমালা অনুসরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল ব্যারিয়ার্স টু ট্রেড (টিবিটি), কোডেক্স অ্যালিমেন্টেরিয়াস এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মানদণ্ড অনুসরণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এর ফলে মানসম্পন্ন পণ্য আমদানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থাপনাও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রবাসী বিনিয়োগ ও রপ্তানিমুখী শিল্পে সুবিধাপ্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে আমদানি সুবিধাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চ মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এ সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল আমদানি নীতি শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানি সহজ করতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।সব মিলিয়ে নতুন আমদানি নীতিতে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সমন্বিত একটি ব্যবসাবান্ধব কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৭ ঘন্টা আগে
সারাদেশ

সারাদেশ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি সার কারখানাও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চল থেকে সার আমদানিতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশে বর্তমানে সারের সংকট নেই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মজুত রয়েছে। চলতি মাসেই বিভিন্ন দেশ থেকে আরও সার দেশে আসবে।বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে থাকা সাতটি সার কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি (জেএফসিএল), আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এএফসিএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ডিএপিএফসিএল) ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল)। শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে।বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাতটি কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ থাকলেও এক-দুই দিনের মধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন শুরুর আশা করা হচ্ছে। কারখানাটি পুরোপুরি শাটডাউন করা হয়নি। তিনি বলেন, আমন মৌসুমে সারের ঘাটতি হবে না। কাতার ও সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে সার আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ব্রুনেই থেকেও সার আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।বিসিআইসির সাতটি কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে সিইউএফএল। কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে এটি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) আবদুল্লাহ আল মামুন।গ্যাস সংকটে একই সময় থেকে বন্ধ রয়েছে জেএফসিএলও। এর আগে তিন মাস চালু থাকার পর প্রায় এক বছর কারখানাটি বন্ধ ছিল। জেএফসিএলে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।কাঁচামালের সংকটে গত বছরের নভেম্বর থেকে বন্ধ টিএসপি কারখানা। সেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টন টিএসপি সার উৎপাদন করা সম্ভব। কারখানাটি কবে চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে গত বছরের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ টন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।গ্যাস সংকটে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানার উৎপাদনও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন উৎপাদন সক্ষমতার এ কারখানাটি দ্রুত চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।এদিকে ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটিতে গ্যাসের প্রয়োজন না থাকলেও কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।বর্তমানে একমাত্র উৎপাদনে থাকা ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ টনের বেশি সার উৎপাদিত হচ্ছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের মজুত রয়েছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৬৮ হাজার, ৩ লাখ ৫২ হাজার, ৩ লাখ ৬৮ হাজার ও ১ লাখ ৮১ হাজার টন। আসন্ন রবি মৌসুমে এসব সারের চাহিদা যথাক্রমে ১৩ লাখ ২৬ হাজার, ৯ লাখ ৮৮ হাজার, ৪ লাখ ৪৯ হাজার ও ৫ লাখ ৯৮ হাজার টন।কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসেই কানাডা, রাশিয়া ও মরক্কো থেকে আরও সার দেশে আসবে। ফলে মৌসুম শুরুর আগেই চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকবে বলে আশা করছে সরকার।কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো সারের সংকট নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মজুত পরিস্থিতি ভালো। সার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলো দ্রুত সচল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সার আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এদিকে চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ লাখ হেক্টর। রবি মৌসুমে সারের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি থাকবে। ফলে উৎপাদন ও আমদানির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
২০ আগস্ট ২০২৬
কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কোন পোস্ট নেই !
অনলাইন জরিপ

অনলাইন জরিপ

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
কোন ভিডিও নেই !
কোন ভিডিও নেই !
Worldwide Freight Services

Worldwide Freight Services

কোন পোস্ট নেই !
ইমপোর্ট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড import

ইমপোর্ট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড import

কোন পোস্ট নেই !
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

ডি এইচ এল সার্ভিস DHL

ডি এইচ এল সার্ভিস DHL

ডিএইচএল গ্রুপ তাদের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2) দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পুরো বছরের সম্ভাব্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রাবাড়িয়েছে।

ডিএইচএল গ্রুপ তাদের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2) দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে পুরো বছরের সম্ভাব্য আয়ের লক্ষ্যমাত্রাবাড়িয়েছে।

আর্থিক খতিয়ান (Q2 ২০২৬-এর প্রাথমিক ফলাফল)আর্থিক খতিয়ান (Q2 ২০২৬-এর প্রাথমিক ফলাফল)রাজস্ব বৃদ্ধি: বার্ষিক হিসেবে গ্রুপের সামগ্রিক রাজস্ব বা রেভিনিউ ১০%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।EBIT বা পরিচালন মুনাফা: প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী গ্রুপের EBIT প্রায় ১,৮৫০ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের (১,৪২৯ মিলিয়ন ইউরো) তুলনায় ২৯% বেশি।সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা: এই ইতিবাচক গতির কারণে ম্যানেজমেন্ট পুরো ২০২৬ সালের জন্য তাদের EBIT পূর্বাভাস আগের ৬.২ বিলিয়ন ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি নির্ধারণ করেছে।বিভাগ ভিত্তিক পারফরম্যান্সডিএইচএল এক্সপ্রেস (DHL Express): গত বছরের ৭৩০ মিলিয়ন ইউরোর তুলনায় এবার EBIT দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,১৯৫ মিলিয়ন ইউরো। পণ্য পরিবহনের ওজন বৃদ্ধি এবং এয়ার ফ্রেইট ক্যাপাসিটির সীমাবদ্ধতার কারণে অতিরিক্ত ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর সুবিধা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।ডিএইচএল গ্লোবাল ফরওয়ার্ডিং (DHL Forwarding): বৈশ্বিক বাজারের নানা জটিলতা কাটিয়ে উঠে প্রায় ২৪০ মিলিয়ন ইউরো EBIT অর্জন করেছে (যা গত বছর ছিল ১৯৬ মিলিয়ন ইউরো)।আর্থিক খতিয়ান (Q2 ২০২৬-এর প্রাথমিক ফলাফল)ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন (DHL Supply Chain): এই বিভাগের EBIT হয়েছে প্রায় ৩০৫ মিলিয়ন ইউরো (গত বছর এটি ৩৪৮ মিলিয়ন ইউরো ছিল, যা মূলত এককালীন কিছু ইতিবাচক সুবিধার কারণে বেশি ছিল)।ডিএইচএল ই-কমার্স (DHL eCommerce): কিছুটা কমে এবার EBIT দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে (গত বছর যা ছিল ৫৬ মিলিয়ন ইউরো)।গ্রুপের অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর বিশেষ কার্যক্রম ("Fit for Growth") এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান চাহিদাই মূলত এই আশাতীত মুনাফা অর্জনে বড় অবদান রেখেছে। এই প্রান্তিকের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিবেদন আগামী ৫ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হবে।
এখনই
ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

কোন পোস্ট নেই !
ইউপিএস সার্ভিস UPS

ইউপিএস সার্ভিস UPS

কোন পোস্ট নেই !
ফটো গ্যালারি

ফটো গ্যালারি

কোন ছবি নেই !
কোন ছবি নেই !
সারাদেশ

সারাদেশ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

গ্যাস ও কাঁচামালের সংকট: ৭ সার কারখানার ছয়টিই বন্ধ

তীব্র গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিই বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এর মধ্যে চট্টগ্রামের তিনটি সার কারখানাও বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ওই অঞ্চল থেকে সার আমদানিতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশে বর্তমানে সারের সংকট নেই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মজুত রয়েছে। চলতি মাসেই বিভিন্ন দেশ থেকে আরও সার দেশে আসবে।বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে থাকা সাতটি সার কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (সিইউএফএল), যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি (জেএফসিএল), আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি (এএফসিএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ডিএপিএফসিএল) ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি (এসএফসিএল)। শুধু ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন চলছে।বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্য) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সাতটি কারখানার মধ্যে ছয়টি বন্ধ থাকলেও এক-দুই দিনের মধ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানায় উৎপাদন শুরুর আশা করা হচ্ছে। কারখানাটি পুরোপুরি শাটডাউন করা হয়নি। তিনি বলেন, আমন মৌসুমে সারের ঘাটতি হবে না। কাতার ও সৌদি আরব থেকে বিকল্প পথে সার আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও ব্রুনেই থেকেও সার আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।বিসিআইসির সাতটি কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ১০০ টন। এর মধ্যে গ্যাস সংকটে গত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে সিইউএফএল। কারখানাটিতে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে এটি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) আবদুল্লাহ আল মামুন।গ্যাস সংকটে একই সময় থেকে বন্ধ রয়েছে জেএফসিএলও। এর আগে তিন মাস চালু থাকার পর প্রায় এক বছর কারখানাটি বন্ধ ছিল। জেএফসিএলে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।কাঁচামালের সংকটে গত বছরের নভেম্বর থেকে বন্ধ টিএসপি কারখানা। সেখানে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টন টিএসপি সার উৎপাদন করা সম্ভব। কারখানাটি কবে চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে গত বছরের ১ মার্চ থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ টন। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।গ্যাস সংকটে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানার উৎপাদনও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন উৎপাদন সক্ষমতার এ কারখানাটি দ্রুত চালু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।এদিকে ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানাটিতে গ্যাসের প্রয়োজন না থাকলেও কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।বর্তমানে একমাত্র উৎপাদনে থাকা ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানায় প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ টনের বেশি সার উৎপাদিত হচ্ছে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি সারের মজুত রয়েছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৬৮ হাজার, ৩ লাখ ৫২ হাজার, ৩ লাখ ৬৮ হাজার ও ১ লাখ ৮১ হাজার টন। আসন্ন রবি মৌসুমে এসব সারের চাহিদা যথাক্রমে ১৩ লাখ ২৬ হাজার, ৯ লাখ ৮৮ হাজার, ৪ লাখ ৪৯ হাজার ও ৫ লাখ ৯৮ হাজার টন।কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি মাসেই কানাডা, রাশিয়া ও মরক্কো থেকে আরও সার দেশে আসবে। ফলে মৌসুম শুরুর আগেই চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকবে বলে আশা করছে সরকার।কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো সারের সংকট নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার মজুত পরিস্থিতি ভালো। সার ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলো দ্রুত সচল করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সার আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এদিকে চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ লাখ হেক্টর। রবি মৌসুমে সারের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি থাকবে। ফলে উৎপাদন ও আমদানির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এখনই
Worldwide Freight Services

Worldwide Freight Services

কোন পোস্ট নেই !
ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

ফেডেক্স সার্ভিস Fedex

কোন পোস্ট নেই !
ইউপিএস সার্ভিস UPS

ইউপিএস সার্ভিস UPS

কোন পোস্ট নেই !
কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কাস্টমস ক্লিয়ারিং সার্ভিস C&F

কোন পোস্ট নেই !